রাত ৩:১৬, রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম:
গ্যাস, কাচামালের সংকট: চ্যালেঞ্জের মুখে জাহাজ নির্মাণ শিল্প,,,,, চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ানো যাচ্ছে না ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ,,,, বানিসান্তা বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বয়কট করা হলো,,,,, আন্দোলন ঈদ পর্যন্ত স্থগিত, নৌ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে,,,,,, পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাসরিফ সিরিজের সব লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত! টানা ৭ মাস ছোট নৌযান চলাচল বন্ধ: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত…. বাগেরহাটে খালে পড়ে ড্রেজার শ্রমিক নিখোঁজ,,,, ১০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত পণ্য পরিবহনে বিআইডব্লিউটিসির নৌযানের কোটা সংরক্ষণের সুপারিশ,,,,, মির্জাগঞ্জে জাহাজ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,,, মোংলা বন্দরে ভিড়েছে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পণ্য বহনকারী বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি অপরাজিতা’। নৌযান শ্রমিকের বেতন আদায় করে দিলেন আনিছ মাষ্টার WTC এর নামে নৌ পথে মালিক সমিতির কয়েকটি চেকিং পোস্ট করেছে। ইরানের যুদ্ধজাহাজ ভেড়ার অনুমতি, ব্রাজিলকে সতর্ক করল ইসরায়েল… সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলন, কর্ণফুলীর মোহনায় নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা নৌযান শ্রমিকদের মূল বেতন ৬০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক : নুরুল হক (ভিডিও) অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা বেতন-ভাতা ও মজুরি নিয়ে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব, মাস্টারশিপ পরীক্ষায় বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি……. দূষণ রুখতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি জাহাজ থেকে সরানো হচ্ছে ছাই,,,, লোহা পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু লোহার তৈরি জাহাজ পানিতে ভাসে কেন? মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা জাহাজ মোংলা বন্দর এসে পৌছেছে,, কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী নদীতে থাকা জাহাজ থেকে তেল চুরি। মোংলায় পর্যটকবাহী বোট ডুবি, ১৩ দর্শণার্থী জীবিত উদ্ধার, বুড়িগঙ্গা নদীর সীমানাধনী পাগলা ষ্টেশন কোষ্টগার্ড কতৃক বাল্কহেড নৌ শ্রমিক নির্যাতন। যে পাঁচটি দেশের সঙ্গে জাহাজ যোগাযোগ নেই বাংলাদেশের আবারও কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি নৌযান শ্রমিকদের সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৮৪ ভোটে বিজয়ী হলেন কাউসার আহম্মেদ পলাশ,,, দুর্ঘটনা মুক্ত নৌপথ গড়তে নৌযানগুলোর ফিটনেস ও চালকদের যোগ্যতা সনদ যাচাই করতে, নদীতে মেরিন কোর্ট বসে। ‘চালকের ভুলে’ ৫০০ টন সার নিয়ে ডুবেছে জাহাজটি বাগেরহাট জেলার,, মোড়েলগন্জ থানাধীন ৯ নং ওয়ার্ডে আবারও ডাকতী,,,

মাস্টারশিপ পরীক্ষায় বড় অনিয়ম ও দুর্নীতি…….

মেরিন নিউজ ২৪ ডেস্ক।। আপডেটঃ বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৮:১৭ পিএম 231 বার পড়া হয়েছে

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে অভ্যন্তরীণ জাহাজের মাস্টারশিপ পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে । মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সেটাও নিজেদের পকেটে পুরেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যেই অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির মাস্টারশিপ পরীক্ষা নিয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি নজিরবিহীনভাবে ১ হাজার ৩২৫ পরীক্ষার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এক দিনে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের এই বিষয়টি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এর পেছনেও কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে অভ্যন্তরীণ জাহাজের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির মাস্টারশিপ এবং ড্রাইভারশিপ (জাহাজচালক ও ইঞ্জিনচালকের যোগ্যতা নির্ধারণী) পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিটি শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় প্রতি দুই মাস পর।

 

গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় শ্রেণির মাস্টারশিপ পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮১৬। এর মধ্যে এক দিনের লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন ১ হাজার ৩২৫ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ ৭১৭ জন। এক দিনের পরীক্ষায় এত সংখ্যক আবেদনপত্র এবং পরীক্ষা গ্রহণ এটাই প্রথম।

 

সূত্রমতে, এক দিনে তিনশর বেশি প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার নজির নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নেই। এ ক্ষেত্রে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আবেদনপত্রই গ্রহণ করে না কর্তৃপক্ষ। তাদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বলা হতো। প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের পাশাপাশি স্থান সংকুলানের অভাবের কারণেই এমনটি করত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিদ্যমান জনবল সংকটের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে রাজধানীর মতিঝিলের নৌ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের নিকটবর্তী ফকিরাপুলের ‘গাউছে পাক’ ভবনের একটি হলরুম ভাড়া করে সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির পথ পরিষ্কার করতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরীক্ষকরা এমন বিস্ময়কর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। প্রার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। দালালচক্র মারফত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে আগাম চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীদের পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তাদের ৬০ জার টাকা করে দিতে হয়েছে। ৬০ হাজার আর তাদের কাছ থেকে দালালরা ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এভাবেই তৃতীয় শ্রেণির মাস্টারশিপ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রার্থীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নজিরবিহীনভাবে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের সঙ্গে নতুন অভিনব কৌশলও যুক্ত হয়েছে। এবার পরীক্ষার্থীদের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় সরকারি ফি’র বাইরে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। যেসব আবেদনকারী এই অতিরিক্ত টাকা দিয়েছেন, তারাই কেবল পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেয়েছেন। যে কারণে আবেদনকারীর সবাই আবার পরীক্ষা দেওয়ারও সুযোগ পাননি। এভাবে মোট ১ হাজার ৩২৫ জন অংশগ্রহণকারীর কাছে থেকে অতিরিক্ত ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাঁদের কাছ থেকে আদায়কৃত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মূলত মাস্টারশিপ পরীক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দিকেই অভিযোগের তীর উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকরাও এর ভাগ পেয়েছেন। সরকারি ফির বাইরে জনপ্রতি আদায়কৃত ৩ হাজার টাকার মধ্যে জনপ্রতি ২

হাজার টাকা করে পেয়েছেন মাস্টারশিপ পরীক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার (চলতি দায়িত্বে) ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ। বাকি টাকা নিয়েছে দালালচক্র। এই হিসাবে কেবল অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থের মধ্যে বোর্ড চেয়ারম্যান একই পেয়েছেন ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সূত্রমতে, মাস্টারশিপ পরীক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আগেই নানা অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানও শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২০ সাল থেকে চলমান এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহিন আরা মমতাজ

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাস্টারশিপ পরীক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই বছরের করোনার কারণে এতদিন মাস্টারশিপ পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় হল ভাড়া করে এবার একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে হয়েছে

পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য দালাল মারফত প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং আবেদন জমা নেওয়ার সময় ৩ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, যাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তাদের বেতনই সর্বসাকল্যে ১০-১২ হাজার টাকা। এজন্য এত টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ হাস্যকর। তাছাড়া সব পরীক্ষার্থীকেই আবেদন করতে হয়েছে অনলাইনে। এখানে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ কোথায়

তার বিরুদ্ধে ওঠা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি ২১ বছর বিদেশে চাকরি করেছি। তখন আমার বেতন ছিল ১২ হাজার ডলার। এর পর ৪২ বছর বয়সে নিজ যোগ্যতাবলে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছি। আমার অর্জিত যে সম্পদ সেটা সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগেই হয়েছে। এখন সরকার বা দুদক হয়তো মনে করেছে, এই অভিযোগের অনুসন্ধান করা দরকার, তাই করছে। এটা অনেকের ক্ষেত্রেই করা হয়ে থাকে। এখন প্রকৃত ঘটনা তো অনুসন্ধানের পরই প্রমাণ হবে।”

মন্তব্য

আপলোডকারীর তথ্য

Mahadi Hasan Sumon

আপলোডকারীর সব সংবাদ